মোজিলার উদ্দেশ্য

Estiuck Al Regun

0

মজিলা হল একটি অলাভজনক সংগঠন। তাদের সকল কার্যক্রম ইন্টারনেট আর ওয়েব নিয়ে। তারা নিজেদের সংগঠনের মূল ভিত্তি তৈরী করেছে দশটি মূলনীতির ওপর, তাদের প্রায় সকল কার্যক্রম এই ১০টি আদর্শের আলোকে পরিচালিত হয়। ইংরেজীতে তারা বলে Our 10 Principles, একসাথে বলা হয় Mozilla Manifesto; আমি পড়ে নিজের মত করে বোঝার চেষ্টা করেছি আর আমার সেই ধারণা সকলের সাথে শেয়ার করলাম। আশা থাকবে, আমার বোঝার ভুলগুলো সবাই কমেন্ট করে জানিয়ে দেবেন।  সেই ফিলোসফি গুলো হলো :

১) ইন্টারনেট হল দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বা অংশ। ইন্টারনেট সকল কাজের জন্যই দরকারি। কারণ আমি ইন্টারনেটে পড়াশোনা করতে পারব, যোগাযোগ করতে পারব, বিনোদনের জন্য ভিডিও পাব,  অনেক কিছু করতে পারব।ইন্টারনেট হল একটি বিশ্ব ভান্ডার। এখানে আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারব নাহ যে এখানে শুধু পড়াশোনা করা যায় আর গান শোনা যায়। ইন্টারনেট সবার জন্যই দরকারি, হোক সে ছোট কিংবা বড় আর ধনী কিংবা গরিব। আপনি যা চাইবেন তাই পাবেন ইন্টারনেটে।

২) আচ্ছা ইন্টারনেট এর মালিক কি গুগল আর ফেইসবুক? অবশ্যই নাহ। কারণ ইন্টারনেট হল এমন একটি জিনিস যা একজন বা দুই জনকে নিয়ো তৈরী হয়নি। কোটি কোটি ডিভাইস, কম্পিউটার আর সার্ভার এক হয়ে আজকের এই ইন্টারনেট তৈরী। একক কোন ব্যক্তি বা একক কোন কোম্পানী ইন্টারনেট তৈরীও করেনি, আর সেটি তা নিয়ন্ত্রণও করে না।
– তাহলে গুগল আর ফেইসবুক কি?
– আসলে গুগল আর ফেইসবুক হল বিভিন্ন প্রকার অনলাইন সেবার সমষ্টি, যা কোথাও না কোথাও বিশেষ কম্পিউটারে বা সার্ভারে থাকে, আর আমরা সবাই তা ব্যবহার করি আমাদের নানান প্রয়োজনে।
– আচ্ছা এইবার আমাকে বলুন, আমাদের  দেশের মালিক কি শুধু রাজনৈতিক দুই নেতা?
– নাহ। দেশের মালিক তো জনগন।
– যদি দেশের মালিক জনগণ হয় তাহলে ইন্টারনেটের মালিকও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। তাই ইন্টারনেট হলো একটি জনসম্পদ। আর তাই ইন্টারনেট সব সময় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকাতে হবে। কেউ এখানে কোন মতামত চাপিয়ে দিতে পারবে নাহ। কারণ ইন্টারনেট কারও মালিকানাধীন নাহ।

৩) ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন হতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা সহজেই মেডিক মোবাইলকে জানাতে পারছি আমাদের অসুস্থতার লক্ষণ। আর মেডিক কেয়ার তখন তাদের ডাক্তারের সেবা প্রদান করে থাকে।
আচ্ছা তার থেকে মজার ব্যাপার হলো যে আমি একটি এরিয়াতে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াব ছোট বাচ্চাদের। তখন আমরা যদি তাদেরকে তা জানিয়ে দিতে পারছি ইন্টারনেট কিংবা মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে তখন তা সহজ হয়ে উঠল।

৪) একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা হল তার মৌলিক অধিকার। এইটা কখনোই অপশনাল হতে পারে নাহ।
আমরা যেমন দৈনন্দিন জীবনে বেচে থাকার জন্য নিরাপত্তা ও আমরা কি করছি তার গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরী ঠিক তেমনি ইন্টারনেটেও তা জরুরী। কারণ তা নাহ হলে আমার তথ্য যে কেউ হাতিয়ে নিতে পারে। যার ফলে আমি নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হব। তাই নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

৫) যেহেতু ইন্টারনেট গড়ে উঠেছে তার ব্যবহারকারীদের নিয়ে তাই তাদের নিজেস্ব মত ইন্টারনেটে প্রকাশ করার অধিকার আছে। আর একজন মানুষের মত প্রকাশের অধিকার হল অনেক বড় একটি অধিকার। তাই সকলকে তার মত প্রকাশের অধিকার দিতে হবে।

৬) ইন্টারনেট হল একটি জনসম্পদ। কোন ব্যাক্তি এই সম্পদের উপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে নাহ।  কারও অধিকার নেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য একজন ইন্টারনেট ব্যাহারকারীর  উপর নজরদারি করা।
মনে করুন আমি একটি ফোন কিনার জন্য একটি স্যামসাং এর সো রুমে গেলাম। তা একজন ফলো করল আমাকে। তারপর যখন বাসায় ফিরলাম তখন সে আমার পিছু নিয়ে আমার বাসার ঠিকানা জেনে নিল। তারপর সে একদিন হাজির হলো তার কোম্পানির মোবাইল নিয়ে। তার মানে সে আমার উপর নজরদারি করল। যেইটা আমরা কেউই মেনে নিব নাহ বাস্তব জীবনে।
তাহলে কেন আমরা তা ইন্টারনেটের জগৎতে এই ঘটনা ঘটতে দিব।তাই কেউ আমাদেরকে নজরদারি করতে পারবে নাহ।

৭) ওপেন সোর্স ইন্টারনেটকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলে। কারণ তাতে সবাই তাদের  ইচ্ছামত ডেভলপ করতে পারে। যার ফলে সে তার চাহিদাও যেখানে যুক্ত করতে পারছে।  আর  ইন্টারনেট হল জনসম্পদ। তাই সবারই অধিকার আছে ইন্টারনেটকে নিজের মত করা ডেভলাপ করা আর তাতে ওপেন সোর্স সফটওয়ার গুলি অনেক বড় অবদান রাখে।

৮) ঐক্যের মাধ্যমে বিশ্বাস, মনোবল, দায়িত্ব বোধ বৃদ্ধি পায়। আমরা সকলেই জানি “একতাই বল”।  আমরা যদি ইন্টারনেটকে আরও সুন্দর ও সুবিধাজনক করে তুলতে চাই তাহলে আমাদের সকলেই ঐক্য বদ্ধ হতে হবে। তাহলে আমরা ইন্টারকে সকলের কাছে পৌছে দিতে পারব।

৯) ইন্টারনেট হল একটি জনসম্পদ। তাই যারা ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে মুনাফা অর্জন করছেন তাদের উচিত মুনাফার হারকে কমিয়ে আনা। কারণ ইন্টারনেট কোন বাণিজ্য ক্ষেত্র নয়। সবার ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমেই ইন্টারনেট তৈরী হয়েছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে ইন্টারনেকে ব্যবহার করে ব্যবসা করা যাবে নাহ। কারণ কোন কিছুকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যবসার অবদান ও গুরুত্বপূর্ণ।

১০) ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের যেন ভালো হয় সে দিকে আমাদের সকলের নজর দেয়া উচিত। তাহলেই মানুষ ইন্টারনেটকে ব্যবহার করতে চাইবে। যার ফলে ইন্টারনেটের মানও বৃদ্ধি পাবে ।

No responses yet

Comments are closed, but trackbacks are open.